Oppo Find X9 Ultra দাম কত বাংলাদেশে ২০২৬

Oppo Find X9 Ultra দাম কত বাংলাদেশে ২০২৬

5/5 - (1 vote)

আপনি যদি ছবি তোলার জন্য দারুন একটি মোবাইল ফোন খুজে থাকেন তাহলে আপনার জন্য চলে এসেছে Oppo Find X9 Ultra

অপ্পো তাদের এই ফোনটিকে বলছে Built to Be Your Next Camera বা আপনার পরবর্তী ক্যামেরা। স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (MWC 2026)-এ ফোনটির গ্লোবাল লঞ্চের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই টেক দুনিয়ায় এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

আজকের এই পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি oppo find x9 ultra ফোনটির রিলিজ ডেট কবে, বাংলাদেশে এর দাম কত হতে পারে এবং এর স্পেসিফিকেশনে এমন কী আছে যার জন্য সবাই এত অপেক্ষা করছে। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

Oppo Find X9 Ultra রিলিজ ডেট

অপ্পোর আগের মডেল, অর্থাৎ Find X8 Ultra শুধুমাত্র চীনের বাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল। এতে গ্লোবাল মার্কেটের অনেক ভক্তই হতাশ হয়েছিলেন। কিন্তু এবার অপ্পো ইউরোপের সিইও এলভিস ঝাউ (Elvis Zhou) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, Oppo Find X9 Ultra বিশ্বব্যাপী রিলিজ হবে।

লিক হওয়া তথ্য এবং টেক রিপোর্ট অনুযায়ী:

  • গ্লোবাল লঞ্চ: ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে চীনে লঞ্চ হওয়ার পর, এপ্রিল বা মে মাসের দিকে এটি গ্লোবাল মার্কেটে (ইউরোপ, ভারত এবং অন্যান্য দেশে) আসবে।
  • বাংলাদেশে কবে আসবে: গ্লোবাল লঞ্চের পরপরই, অর্থাৎ মে বা জুন মাসের দিকে বাংলাদেশের আনঅফিসিয়াল মার্কেটে (যেমন: যমুনা ফিউচার পার্ক বা বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন গ্যাজেট শপে) ফোনটি পাওয়া যাবে। অফিসিয়ালি আসতে হয়তো আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশে Oppo Find X9 Ultra দাম কত?

যেহেতু এই মোবাইল ফোনটি একেবারেই নতুন তাই এর অফিসিয়াল দাম এখনও পর্যন্ত রিলিজ হয়নি। তবে টেক এক্সপার্টদের ধারণা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের লিক হওয়া প্রাইস অনুযায়ী, বাংলাদেশে এর দাম কেমন হতে পারে তার একটি আনুমানিক ধারণা নিচে দেওয়া হলো:

  • 12GB RAM + 256GB Storage: প্রায় ১,৩০,০০০ টাকা থেকে ১,৪০,০০০ টাকা।
  • 16GB RAM + 512GB Storage: প্রায় ১,৫০,০০০ টাকা থেকে ১,৬০,০০০ টাকা।
  • 16GB RAM + 1TB Storage (Master Kit Edition): প্রায় ১,৭০,০০০ টাকার উপরে।

নোট: ডলারের রেট এবং ট্যাক্সের ওপর ভিত্তি করে আনঅফিসিয়াল মার্কেটে দাম কিছুটা ওঠানামা করতে পারে।

Oppo Find X9 Ultra এর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন

বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে চলুন ফোনটির মূল কনফিগারেশনগুলো একনজরে দেখে নিই:

ফিচারস্পেসিফিকেশন
ডিসপ্লে৬.৮২ ইঞ্চি, 2K BOE X3 OLED (ফ্ল্যাট স্ক্রিন), ১২০Hz/১৪৪Hz রিফ্রেশ রেট
প্রসেসরকোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ (Snapdragon 8 Elite Gen 5)
র‍্যাম ও স্টোরেজ১২জিবি/১৬জিবি র‍্যাম, ২৫৬জিবি/৫১২জিবি/১টিবি (UFS 4.1)
পিছনের ক্যামেরা২০০ মেগাপিক্সেল (মেইন) + ২০০ মেগাপিক্সেল (পেরিস্কোপ) + ৫০ মেগাপিক্সেল (আল্ট্রাওয়াইড) + ৫০ মেগাপিক্সেল (টেলিফটো)
সামনের ক্যামেরা৫০ মেগাপিক্সেল (অটোফোকাস সহ)
ব্যাটারি৭০৫০ এমএএইচ (7050 mAh)
চার্জিং১০০ ওয়াট তারযুক্ত (Wired), ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস (Wireless)
অপারেটিং সিস্টেমঅ্যান্ড্রয়েড ১৫ (কালারওএস)
অন্যান্যIP68/IP69 ওয়াটার ও ডাস্ট রেজিস্ট্যান্স, ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট

বিস্তারিত রিভিউ এবং স্পেসিফিকেশন বিশ্লেষণ

এবার চলুন ফোনটির প্রতিটি সেকশন নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করি, যাতে আপনি বুঝতে পারেন এত টাকা দিয়ে ফোনটি কেনা আপনার জন্য লস হবে নাকি লাভ।

ডিজাইন এবং ডিসপ্লে

আগের মডেলগুলোতে কার্ভড (Curved) ডিসপ্লে ব্যবহার করা হলেও, লিক হওয়া তথ্য বলছে Oppo Find X9 Ultra-তে এবার ফ্ল্যাট ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। অনেকেই কার্ভড ডিসপ্লেতে ভুল টাচ লাগার সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি দারুণ খবর।

ফোনটিতে থাকছে ৬.৮২ ইঞ্চির বিশাল একটি 2K রেজুলেশনের BOE X3 OLED প্যানেল। এর রিফ্রেশ রেট ১২০Hz থেকে ১৪৪Hz এর মধ্যে থাকবে। অর্থাৎ, আপনি যখন গেম খেলবেন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করবেন, তখন স্ক্রিন হবে মাখনের মতো স্মুথ। রোদের আলোতে ফোন ব্যবহারের জন্যও এতে যথেষ্ট ব্রাইটনেস দেওয়া হয়েছে। আর ফোনটি যাতে পানিতে ভিজে নষ্ট না হয়, সেজন্য এতে IP68 এবং IP69 রেটিং থাকছে।

প্রসেসর এবং পারফরম্যান্স

একটি ফ্ল্যাগশিপ ফোনের প্রাণ হলো তার প্রসেসর। অপ্পো এখানে কোনো ছাড় দেয়নি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের একদম লেটেস্ট স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ (Snapdragon 8 Elite Gen 5) চিপসেট।

এই প্রসেসরের কারণে ফোনটি শুধু দ্রুত কাজ করবে তা নয়, বরং এটি ব্যাটারিও অনেক কম খরচ করবে। আপনি যদি হেভি গেমার হন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেনশিন ইমপ্যাক্ট (Genshin Impact) বা পাবজি (PUBG Mobile) সর্বোচ্চ গ্রাফিক্সে খেলতে চান, এই ফোনটি একটুও ল্যাগ করবে না। সাথে UFS 4.1 স্টোরেজ থাকায় যেকোনো বড় ফাইল বা ভিডিও কয়েক সেকেন্ডেই ট্রান্সফার হয়ে যাবে।

ক্যামেরা সেকশন

এই ফোনটির সবচেয়ে বড় হাইলাইট হলো এর ক্যামেরা। ডিজিটাল চ্যাট স্টেশন (Digital Chat Station) এর লিক অনুযায়ী, অপ্পো এমন একটি ক্যামেরা সিস্টেম তৈরি করেছে যা বর্তমান বাজারের সব ফোনকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত।

পিছনে থাকছে মোট চারটি ক্যামেরা, যার মধ্যে দুটিই ২০০ মেগাপিক্সেলের:

  1. ২০০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা: এতে Sony LYTIA 901 সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে (১/১.১২ ইঞ্চি)। সেন্সর বড় হওয়ার কারণে এটি রাতের বেলাতেও দিনের মতো পরিষ্কার এবং নয়েজ-ফ্রি ছবি তুলতে পারবে।
  2. ২০০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপ লেন্স: এটি ৩এক্স (3x) অপটিক্যাল জুম সাপোর্ট করে। দূরের কোনো সাবজেক্টের ছবি জুম করে তুললেও একটুও ফাটবে না।
  3. ৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড: গ্রুপ ছবি বা বড় কোনো ল্যান্ডস্কেপ তোলার জন্য।
  4. ৫০ মেগাপিক্সেল ৬এক্স/১০এক্স টেলিফটো: অনেক দূরের ছবি তোলার জন্য।

এছাড়া কালার ঠিক রাখার জন্য একটি ডেডিকেটেড ৩.২ মেগাপিক্সেলের ‘ডানক্সিয়া’ (Danxia) মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সর দেওয়া হয়েছে। আর সেলফি তোলার জন্য সামনে থাকছে ৫০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা।

ছবি তোলার পর কালার যেন একদম ন্যাচারাল এবং প্রফেশনাল আসে, সেজন্য অপ্পো বিখ্যাত ক্যামেরা ব্র্যান্ড হ্যাসেলব্লাড (Hasselblad)-এর সাথে মিলে কাজ করেছে। এককথায়, যারা ছবি তুলতে বা ভিডিও বানাতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি স্বপ্নের ফোন।

ব্যাটারি এবং চার্জিং

সাধারণত ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোতে ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি থাকে। কিন্তু অপ্পো সবাইকে চমকে দিয়ে এতে ৭০৫০ এমএএইচ (7050 mAh) এর এক বিশাল ব্যাটারি ব্যবহার করেছে।

এত বড় ব্যাটারি থাকার মানে হলো, আপনি সারাদিন 4K ভিডিও রেকর্ড করলেও বা একটানা গেম খেললেও দিন শেষে চার্জ ফুরোবে না। আর ফোন চার্জ করার জন্য বক্সে থাকছে ১০০ ওয়াটের সুপার ফাস্ট চার্জার। এত বড় ব্যাটারি হওয়া সত্ত্বেও এটি ফুল চার্জ হতে খুব বেশি সময় নেবে না।

স্পেশাল মাস্টার কিট এডিশন কী?

অপ্পো এবার ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি স্পেশাল ভ্যারিয়েন্ট বাজারে আনছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে Master Kit
এই এডিশনে ১৬জিবি র‍্যাম এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজ তো থাকবেই, সাথে একটি এক্সক্লুসিভ ম্যাগনেটিক কেস, লেন্স মাউন্টিং রিং এবং একটি ডেডিকেটেড হ্যাসেলব্লাড টেলি-কনভার্টার লেন্স থাকবে। এটি ফোনটির সাথে যুক্ত করলে ফোনটি আক্ষরিক অর্থেই একটি প্রফেশনাল ক্যামেরায় পরিণত হবে। যারা প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি টুল হতে পারে।

Oppo Find X9 Ultra VS Samsung S26 Ultra vs Xiaomi 17 Ultra

১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা বাজেটে বাজারে আরও কিছু দুর্দান্ত অপশন রয়েছে। আপনি চাইলে সেগুলোও বিবেচনা করে দেখতে পারেন:

  1. Samsung Galaxy S26 Ultra: আপনি যদি স্যামসাংয়ের ব্র্যান্ড ভ্যালু, এস-পেন (S-Pen) এবং এআই (AI) ফিচার পছন্দ করেন, তবে এটি সেরা অপশন।
  2. Xiaomi 17 Ultra: শাওমির এই ফোনটিতেও লাইকা (Leica) লেন্সের দুর্দান্ত ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে। যারা শাওমির ইকোসিস্টেম পছন্দ করেন, তারা এটি দেখতে পারেন।
  3. Vivo X300 Ultra: ভিভো তাদের এক্স সিরিজের ক্যামেরার জন্য বিখ্যাত। পোর্ট্রেট ছবি তোলার ক্ষেত্রে ভিভো এক্স৩০০ আল্ট্রা অপ্পোকে কড়া টক্কর দেবে।

Oppo Find X9 Ultra কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন

  • গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট কিনবেন: ফোনটি যেহেতু এবার গ্লোবালি রিলিজ হচ্ছে, তাই চেষ্টা করবেন গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্টটি কিনতে। চাইনিজ ভ্যারিয়েন্টে অনেক সময় গুগল প্লে স্টোর বা নোটিফিকেশন নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয়।
  • প্রয়োজন বুঝে স্টোরেজ নির্বাচন করুন: আপনি যদি অনেক বেশি ভিডিও করেন, তবে ২৫৬ জিবির বদলে ৫১২ জিবি স্টোরেজ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ এত হাই-রেজুলেশনের ছবি ও ভিডিও অনেক বেশি জায়গা দখল করে।
  • মাস্টার কিট সবার জন্য নয়: আপনি যদি সাধারণ ইউজার হন, তবে মাস্টার কিট এডিশন কিনে অতিরিক্ত টাকা খরচ করার দরকার নেই। বেস ভ্যারিয়েন্টেই আপনি সেরা অভিজ্ঞতা পাবেন।

আপনার প্রশ্ন আমাদের উত্তর

Oppo Find X9 Ultra কি বাংলাদেশে অফিসিয়ালি পাওয়া যাবে?

যেহেতু ফোনটি গ্লোবালি রিলিজ হচ্ছে, তাই বাংলাদেশে অফিসিয়ালি আসার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার আগেই এটি আনঅফিসিয়াল মার্কেটে পাওয়া যাবে।

Oppo Find X8 Ultra ফোনটিতে কি ৫জি (5G) সাপোর্ট করে?

হ্যাঁ, এতে লেটেস্ট স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর থাকায় এটি সম্পূর্ণভাবে 5G সাপোর্টেড।

আমার ব্যক্তিগত মতামত

সবদিক বিবেচনা করে বলতে গেলে, Oppo Find X9 Ultra ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা একটি স্মার্টফোন হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা ছবি তুলতে ভালোবাসেন এবং ফোনের চার্জ সহজে শেষ হবে না, তাদের জন্য এটি একটি পারফেক্ট মোবাইল ফোন।

২০০ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ এবং ৭০৫০ এমএএইচ ব্যাটারি এই দুটি ফিচারই ফোনটিকে বাজারের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপ থেকে আলাদা করে দিয়েছে। তবে দামের দিক থেকে এটি বেশ প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির। আপনার বাজেট যদি দেড় লাখ টাকার আশেপাশে হয় এবং আপনি একটি নো-কমপ্রোমাইজ ক্যামেরা ফোন চান, তবে নিশ্চিন্তে এই ফোনটির জন্য অপেক্ষা করতে পারেন।

আপনার কী মতামত?
Oppo Find X9 Ultra এর কোন ফিচারটি আপনার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে? এর ক্যামেরা নাকি বিশাল ব্যাটারি? নিচে কমেন্ট করে আপনার মতামত আমাকে জানাতে পারেন।

অন্য মোবাইল সম্পর্কিত পোস্ট করতে পারেন – লাভা বোল্ড ৫জি দাম কত বাংলাদেশে

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *