সেপ্টেম্বর মাস আসা মানেই অ্যাপল প্রেমীদের জন্য নতুন ফোনের খবর। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর আসতে এখনো কিছুদিন বাকি আছে। মানুষের মধ্যে নতুন ডিভাইস নিয়ে এখনই বেশ কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলটি এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে।
অ্যাপল কর্তৃপক্ষ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি বড় অনুষ্ঠান করতে পারে। নতুন এই ফোনটি ওই অনুষ্ঠানেই প্রথম দেখানো হবে। লিক হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে এবার ফোনে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আসছে। বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য দাম এবং নতুন ফিচারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।
নতুন রঙ, দুর্দান্ত ডিজাইন আর শক্তিশালী ব্যাটারি

অ্যাপল আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ডিজাইনে বেশ কিছু নতুনত্ব আনছে। ডার্ক চেরি এবং লাইট ব্লু রঙের দুটি প্রিমিয়াম ভ্যারিয়েন্ট এবার বাজারে আসতে পারে। প্রযুক্তি বাজারে এই নতুন কালার নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে।
ফোনের ব্যাক প্যানেলে এবার ফ্রস্টেড গ্লাস ব্যবহার করা হবে। নতুন এই গ্লাস ফোনটির বাহ্যিক সৌন্দর্য অনেকখানি বাড়িয়ে দেবে। ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর জন্য ফোনটির পুরুত্ব কিছুটা বাড়ানো হচ্ছে। চার্জের স্থায়িত্ব বেশি পাওয়ায় ব্যবহারকারীরা দীর্ঘসময় ফোনটি ব্যবহার করতে পারবেন। ভেতরের পার্টস সহজে মেরামত করার জন্য ইন্টারনাল ডিজাইনে বড় বদল আনা হয়েছে। কোনো সমস্যা হলে সার্ভিসিং সেন্টারে এখন খুব দ্রুত ফোনটি ঠিক করা যাবে।
কোন দেশে দাম কত হতে পারে? (সম্ভাব্য মূল্য তালিকা)
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো পকেটের ওপর কতটা চাপ পড়তে যাচ্ছে? বিভিন্ন দেশের ট্যাক্স ও শুল্কের কারণে আইফোনের দামে বরাবরের মতোই বেশ বড় একটা ফারাক থাকবে।
ভারত (India)
ভারতে আইফোনের ওপর মোটা অঙ্কের কর থাকায় দাম সবসময়ই একটু চড়া থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-এর বেস ভ্যারিয়েন্টের দাম শুরু হতে পারে ১,৫৪,৯০০ টাকা থেকে। আর আপনি যদি বেশি স্টোরেজের (যেমন ৫১২ জিবি বা ১ টিবি) দিকে যান, তবে দাম অনায়াসেই ১.৭ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দুবাই (USA & Dubai)
যারা একটু কমে আইফোন কিনতে চান, তাদের প্রথম পছন্দ থাকে ইউএসএ বা দুবাই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম হতে পারে $১,১৯৯ থেকে $১,২৯৯-এর মধ্যে। অন্যদিকে, দুবাইতে কম ট্যাক্সের সুবিধার কারণে এর দাম শুরু হতে পারে প্রায় ৫,০৯৯ দিরহাম (AED) থেকে। ফলে ভারত বা বাংলাদেশের তুলনায় দুবাই থেকে কেনাটা বেশ সাশ্রয়ী হবে।
সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্য (Singapore & UK)
সিঙ্গাপুরে এই ফোনটির জন্য পকেট থেকে খসতে পারে প্রায় ১,৭৯৯ থেকে ১,৯৪৯ সিঙ্গাপুর ডলার (SGD)। আর যুক্তরাজ্যে (UK) স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে দাম শুরু হতে পারে ১,১৯৯ থেকে ১,২৯৯ পাউন্ডের (£) কাছাকাছি।
পাকিস্তান (Pakistan): যেখানে দাম আকাশছোঁয়া!
উচ্চ আমদানি শুল্ক এবং পিটিএ (PTA) ট্যাক্সের কারণে এবারও পাকিস্তানেই আইফোনের দাম হবে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, পাকিস্তানে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-এর দাম ৪.৫ লাখ থেকে শুরু করে ৫.২ লাখ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের একদম বাইরে।
কেন এবার আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নিয়ে এত মাতামাতি?
অ্যাপল ইদানীং হার্ডওয়্যারের চেয়ে সফটওয়্যার এবং এআই তৈরিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। নতুন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলে সম্ভবত ২-ন্যানোমিটার চিপসেট ব্যবহার করা হবে। শক্তিশালী এই চিপসেটের কারণে ফোনটি অনেক দ্রুত কাজ করবে। ব্যাটারির চার্জও খরচ হবে খুব কম।
ক্যামেরা সিস্টেমে এবার বেশ বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রযুক্তি বাজারে আন্ডার-ডিসপ্লে ফেস আইডি নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। স্ক্রিনের ভেতরে এই প্রযুক্তি থাকলে ওপরের দিকে কোনো নচ বা হোল-পাঞ্চ থাকবে না। পুরো স্ক্রিন জুড়েই তখন পরিষ্কার ডিসপ্লে দেখা যাবে।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে অ্যাপল তাদের প্রিমিয়াম প্রাইসিং পলিসিতেই অটল থাকছে। তবে নতুন ব্যাটারি লাইফ আর দুর্দান্ত ডিজাইনের কারণে দাম একটু বেশি হলেও ফোনটি যে বাজারে ঝড় তুলবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন শুধু আগামী সেপ্টেম্বরের অফিসিয়াল ঘোষণার অপেক্ষা!
আপনার কী মনে হয়? এই দামের সাথে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-এর ফিচারগুলো কি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে? কমেন্ট করে আমাদের জানান!
আমি মোহাম্মদ বেলাল হোসেন। প্রযুক্তির নেশা আর নতুন সব ডিভাইসের খুঁটিনাটি জানার আগ্রহ থেকেই আমার এই পথচলা। বর্তমানে আমি একজন টেক ব্লগার, মোবাইল রিভিউয়ার এবং গ্যাজেট বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছি।